বিড়াল সম্পর্কিত ইসলামিক তথ্য এবং বিড়ালের উপকারিতা

বিড়াল আমাদের প্রায় সকলের পছন্দের একটি প্রাণী।এরা খুব সরল,শান্ত এবং মিশুক হয়ে থাকে।আবার অনেক চঞ্চল ও হয়।বিড়াল অন্যান্য প্রাণীর তুলনায় অনেকটাই অলস।

বিড়াল সম্পর্কিত ইসলামিক তথ্য এবং বিড়ালের উপকারিতা

এরা বয়সানুযায়ী প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকে।বিড়াল নিজের বাচ্চাদের সাথে এবং নিজের মনিবের সাথে খেলা করতে অনেক পছন্দ করে। 

ভূমিকা

বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের সবচেয়ে পছন্দনীয়,পোষ্য যোগ্য এবং সুন্দরতম প্রাণী হল বিড়াল । বিড়াল শান্ত ও মিশুক  স্বভাবের আরামপ্রিয় একটি প্রাণী ।কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা অনেকটা চঞ্চল ও হয়ে থাকে । আমাদের দেশে বিড়াল কে বাঘের মাসি বলা হয় ।কেননা বিড়ালের মুখ, পায়ের নিচের অংশ এবং জিহ্বা অনেকটাই বাঘের মতো দেখতে হয়। বিড়ালের পছন্দনীয় খাবার হল মাছ, মাংস এবং দুধ ।এছাড়াও কিছু কিছু বিড়াল মুড়ি খেতে অনেক পছন্দ করে।এরা চলাচলের সময় কোনো শব্দ হয় না। কারণ এদের পায়ের নিচের অংশ অনেক নরম হয়।

বিড়াল সম্পর্কে ইসলামিক তথ্য

আমাদের ইসলাম ধর্মের বিধান মতে বিড়াল একটি পবিত্র এবং অনুমোদিত প্রাণী ।কেননা এরা সবসময় নিজেদের পরিষ্কার রাখে এবং অপবিত্র জিনিস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করে । আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, বিড়াল অপবিত্র প্রাণী নয় এবং এরা তোমাদের আশেপাশে ঘন ঘন বিচরণকারী প্রাণী। 

রাসুল(সা.) এর এক প্রিয় সাহাবী হযরত আব্দুর রহমান (র.) জামার ভেতর পোষা বিড়াল নিয়ে ঘোরাফেরা করতেন । একদিন তিনি বিড়ালটি নিয়ে রাসুল(সা.) এর দরবারে উপস্থিত হন। এমন সময় হঠাৎ করে সবার সামনে বেরিয়ে আসে ।এই অবস্থা দেখে  রাসুল (সা.) রসিকতা করে তাকে ইয়া আবু হুরায়রা অর্থাৎ হে বিড়ালের পিতা বলে সম্বোধন করলেন।এরপর থেকে তিনি মূল নামের চেয়ে আবু হুরায়রা নামেই বেশি পরিচিত হন।

রাসুল(সা.) ওযু করার সময় বিড়াল কে ওযুর পাত্র থেকে পানি পান করাতেন। একটি হাদিস ইবনু দীনার আত-তাম্মার(র.) হতে বর্নিত,একদা তার মনিব তাকে হযরত আয়েশা(র.) এর নিকট খাবার প্রেরন করেন  অতঃপর আমি তার নিকট পৌঁছে দেখতে পাই তিনি নামাযরত আছেন।তিনি আমাকে পাত্রটি রাখার জন্য ইশারা করলেন ইতিমধ্যে একটি বিড়াল এসে তা থেকে কিছু খাবার খেয়ে ফেললো।নামায শেষে হযরত আয়েশা(র.) বিড়ালের খাওয়া অংশ থেকেই খেলেন এবং বললেন,নিশ্চয়ই রাসুল(সা.) বলেছেন,বিড়াল অপবিত্র নয় এবং এরা তোমাদের আশেপাশে ঘোরাফেরা করে।তিনি আরও বললেন আমি রাসুল(সা.) কে দেখেছি বিড়ালের উচ্ছিষ্ট পানি দ্বারা ওযু করতেন।এ থেকে বোঝা যায় যে,বিড়ালের লালা সবচেয়ে বিশুদ্ধ।বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে জানা গেছে বিড়ালের লালায় কোন প্রকার জীবানু নেই।

যে সকল কারনে বিড়াল পোষা  উচিত

  • এরা সুন্নাত নিয়ে আসে
  • এরা শান্ত স্বভাবের 
  • এরা সবসময় পরিষ্কার থাকে 
  • এরা রহমতের ফেরেশতাদের নিয়ে আসে 
  • এদের লালা বিসুদ্ধ
  • রাসুল(সা.) বিড়াল পছন্দ করতেন

বিড়ালের উপকারিতা 

এছাড়াও বিড়াল ঘরে থাকলে নামায নষ্ট হয় না।বিড়াল আমাদের অস্বাভাবিক প্রাণী থেকে রক্ষা করে।  বিড়াল বদজ্বিন তাড়াতে সাহায্য করে ।বিড়াল আমাদের ডিপ্রেশন কমায় বিড়ালের আওয়াজ মানুষের ক্লান্তি দূর করে এবং ক্ষত দ্রুত ভালো করে।বিড়াল পাশে থাকলে ঘুম ভালো হয়।বাড়িতে বিড়াল থাকলে রাগ,মন খারাপ এবং অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে।কারণ বিড়ালের মধ্যে এমন একটি ব্যাক্টেরিয়া রয়েছে মানুষের নেগেটিভ এনার্জি শোষন করে ফলে অসুখ কম হয়।এরা জ্বিনদের নেগেটিভ এনার্জি কে ও শোষন করে নেই যার ফলে জ্বিন ঘরে প্রবেশ করতে পারে না। বিড়াল নিজেদের চেটে পরিস্কার রাখে। সবশেষে বলা যায় যে বিড়াল আমাদের জন্য খুব উপকারি এবং পবিত্র প্রাণী।

নবী(সা.) এর বিড়ালের নাম কী ছিল

Next Post
No Comment
Add Comment
comment url